ইতালিতে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) তুরিনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু।


তুরিন শহরে রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীরা গাজার ওপর চলমান ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানান এবং ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। পুলিশের ব্যারিকেড ঠেলে সামনে এগোতে চাইলে উত্তেজনা শুরু হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমরা মানবতার পক্ষে, দয়া করে আমাদের এগোতে দিন।”


তবে পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে কাচের বোতল, পাথর, টর্চলাইট এবং আতশবাজি ছুড়ে মারেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।


তুরিনের এই বিক্ষোভের পাশাপাশি পুরো ইতালিজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনের বিস্তার ঘটছে। আগামী ৪ অক্টোবর রোমে জাতীয় পর্যায়ের বিক্ষোভের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে রোম, মিলান, নেপলস এবং বোলোনিয়া শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। শনিবার ফ্লোরেন্স, পিসা, আনকোনা, ট্রিয়েস্ট, বারি ও আলেসান্দ্রিয়ায়ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।


ইসরাইলি অবরোধে গাজা এখন চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে। গত মার্চ থেকে ইসরাইল গাজার সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে, খাদ্য ও ত্রাণবাহী কনভয় আটকে দেওয়া হয়েছে। ফলে অঞ্চলটিতে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। সীমিত যে পরিমাণ ত্রাণ ঢুকছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।


২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় অন্তত ৬৬ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। অব্যাহত বোমাবর্ষণে পুরো উপত্যকাটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাড়ছে অনাহার, রোগবালাই এবং মানবিক সংকট।