অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনৈতিক দলগুলো ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সমর্থন দিলেও তিনি জনগণের প্রত্যাশিত পথে হাঁটেননি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পরিবর্তে তিনি পরোক্ষভাবে দল গঠনের কৌশল নিয়েছেন এবং বিদেশি স্বার্থে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরের চেরাগী পাহাড় মোড়ে অনুষ্ঠিত সিপিবির ত্রয়োদশ জেলা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন এম এম আকাশ। তিনি জানান, সরকার সংস্কারের নামে সাত হাজার পৃষ্ঠার দলিল প্রণয়ন করেছে, কিন্তু এতে মানুষের হতাশা বেড়েছে। নির্বাচন হবে কি না তা নিয়েই এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ড. ইউনূসের সাম্প্রতিক লন্ডন সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা এসেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি চাপের মুখে নির্বাচন দিতে রাজি হয়েছেন, স্বেচ্ছায় নয়। আকাশের ভাষায়, “তিনি বাঘের পিঠে সওয়ার হয়েছেন, সেখান থেকে নামার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।”
তিনি আহ্বান জানান, “সংস্কার ও বিচার নিয়ে আপনার কর্মকাণ্ডে মানুষ আশা পাচ্ছে না। নির্বাচন দিন, বাঘের পিঠ থেকে নেমে আসুন। এটা আপনার জন্য, দেশের জন্য এবং জাতির জন্য কল্যাণকর হবে।”
দেশে কখনো প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি দাবি করে এম এম আকাশ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলের উত্তরসূরিরা স্বৈরতন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে রাজাকারদের সঙ্গে আপস করেছে। এর ফলেই আজ রাজাকারদের পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিপিবি মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। “আমরা রাজাকার-আলবদরদের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করব। এই দেশ হবে গরিব, মেহনতি ও খেটে খাওয়া মানুষের। পাকিস্তানের ২২ পরিবারের মতো কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বাংলাদেশ আমরা চাই না।”
অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এম এম আকাশ এবং দলের পতাকা উত্তোলন করেন চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সভাপতি অশোক সাহা। জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন দলের সংস্কৃতি শাখার কর্মীরা।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক অশোক সাহা। সঞ্চালনা করেন সহকারী সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়া। বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা মৃণাল চৌধুরী ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।





