যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী শুক্রবার আলাস্কায় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। এই তথ্য ট্রাম্প নিজেই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন, যা পরে ক্রেমলিনও নিশ্চিত করে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আরেকটি শীর্ষ বৈঠকের জন্য ট্রাম্পকে রাশিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই বৈঠক নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দুই নেতার এই বৈঠকের ঘোষণার আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইউক্রেনকে কিছু অঞ্চল ছাড় দিতে হতে পারে। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “তোমরা একটা ভূখণ্ড চাইছো, যার জন্য সাড়ে তিন বছর ধরে লড়াই চলছে। অনেক রাশিয়ান ও ইউক্রেনীয় নিহত হয়েছে। কিছু ফিরিয়ে আনা হবে, কিছু বদলানো হবে – উভয়ের ভালোর জন্যই।”

ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু না বললেও, মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজ একটি সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করছে, যেখানে রাশিয়ার হাতে দনবাস ও ক্রিমিয়া থাকবে, আর খেরসন ও ঝাপোরিঝিয়া অঞ্চল ছেড়ে দেবে তারা।

এদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, পুতিন সম্প্রতি ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে মস্কোয় বৈঠকে অনুরূপ প্রস্তাব দেন।
তবে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতারা এই প্রস্তাবে একমত হবেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই জানিয়েছেন, আঞ্চলিক ছাড় দেওয়ার কোনো শর্ত তিনি গ্রহণ করবেন না।

হোয়াইট হাউজের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেলেনস্কিকেও এই আলোচনায় যুক্ত করার সুযোগ এখনো রয়েছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার দীর্ঘ সময় পরেও মস্কো বড় কোনো কৌশলগত সাফল্য পায়নি, তবে এখনো দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইস্তাম্বুলে তিন দফা সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এটিই হতে পারে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ। তবে রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনকে সামরিক শক্তি হ্রাস, নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ এবং ন্যাটোতে যোগদানের ইচ্ছা পরিত্যাগ করতে হবে। সেইসঙ্গে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছে মস্কো।

রাশিয়ার চাওয়া, ইউক্রেন দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চারটি অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। তবে ট্রাম্প শুক্রবার আশাবাদী হয়ে বলেন, একটি ত্রিপক্ষীয় শান্তিচুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “ইউরোপীয় নেতারা শান্তি চান, পুতিনও চান এবং আমি বিশ্বাস করি জেলেনস্কিও চান। তবে তাকে এমন কিছু পেতে হবে, যা নিয়ে সে স্বাক্ষর করতে পারে। আমি জানি, তিনি সে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”

গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পুতিনের আগের অবস্থানে তিনি কিছুটা হতাশ হয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি রাশিয়ার ওপর কড়া অবস্থান নেন এবং শান্তি না হলে নতুন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

তবে শুক্রবারের আগে সেই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সঙ্গে প্রথম টেলিফোনে কথা বলেন ট্রাম্প, যা রাশিয়ার পূর্ণ আক্রমণের পর তাদের প্রথম সরাসরি যোগাযোগ। সর্বশেষ কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ২০২১ সালে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন—তখন জেনেভায় বৈঠক করেছিলেন জো বাইডেন।