কয়েক দিন ধরে কুর্দি যোদ্ধাদের সঙ্গে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ চলার পর সিরিয়ার আলেপ্পোর কয়েকটি এলাকায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে সরকার। শুক্রবার ভোর রাত তিনটা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আবাসিক এলাকাগুলোতে নতুন করে উত্তেজনা ঠেকাতে আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ, আল আশরাফিয়েহ ও বনি জায়েদ এলাকায় যুদ্ধবিরতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে এলাকা ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের কারণে বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিকরা যেন নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আলগারিব সরকারি বার্তা সংস্থা সানাকে জানান, তিনি আশরাফিয়েহ এলাকায় গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবস্থা পরিদর্শন করেছেন।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর কুর্দি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আলেপ্পোতে বর্তমানে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর লড়াই চলছে। কয়েক দিনের সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন।
এসডিএফ সিরিয়ার তেলসমৃদ্ধ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০১৯ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর কাছ থেকে ওই অঞ্চল পুনর্দখলে এ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
এর আগে কুর্দিদের প্রশাসন ও সামরিক কাঠামোকে সিরীয় সরকারের সঙ্গে একীভূত করার যে চুক্তি হয়েছিল, সেটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার থেকে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের দায় নিয়ে সরকারি বাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধারা একে অপরকে দোষারোপ করছে।
ইসলামপন্থী নেতা আল-শারা ক্ষমতায় আসার পর আলেপ্পোতে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। এই সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে দামেস্কের মিত্র তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনার বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে। কুর্দিদের বিরুদ্ধে হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল।





