জিয়ানগর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী সাঈদীপুত্র মাসুদ সাঈদী বলেছেন,“গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ রাজাকার ব্যবসা ও বিভাজনের রাজনীতি করেছে। জুলাই বিপ্লব সেই অবৈধ কার্যকলাপের প্রতিবাদ হিসেবে এসেছে। কিন্তু আজ কিছু রাজনৈতিক বন্ধু আবার সেই বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে।
তিনি বলেন, শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন দিয়ে দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় এবং জনগণের বিবেকের কাছে এই প্রশ্ন রাখছেন।
মাসুদ সাঈদী বলেন,''আওয়ামী লীগের সেই একই ভাষা ও আচরণ যদি না বদলে যায়, তাহলে এত মানুষের জীবন উৎসর্গের মানে থাকবে না। বৃহস্পতিবার পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে গণসংযোগকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভারতের অবস্থানকেও নিয়ে তিনি বলেন, “ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভাজনের রাজনীতি চালানোর ষড়যন্ত্র করছে। দেশের কিছু ‘পৌষ্য দালাল’ সেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশবাসী বিভাজনের রাজনীতি কখনো মেনে নেবে না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তি, ঐক্য ও উন্নয়নের বাংলাদেশ চাই।”
ভোটারদের উদ্দেশে মাসুদ সাঈদী বলেন, “যেভাবে মসজিদের ইমাম নির্বাচনে যাচাই-বাছাই করা হয়, তেমনভাবেই সংসদীয় নির্বাচনে নেতাদের বিচার করবেন। কারণ তিন-চার লাখ মানুষের প্রতিনিধির ওপর দেশ পরিচালিত হবে। যথাযথ যাচাই-বাছাই না হলে অতীতে যেভাবে দুর্নীতি ও জুলুম হয়েছে, সেরকম কোনো সরকার আবার ক্ষমতায় আসতে পারে।”
তিনি তার পিতা শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অসম্পূর্ণ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দেন। বলেন, “আমার পিতা পিরোজপুরকে উন্নয়নের রোডম্যাপ অনুযায়ী সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মিথ্যা অভিযোগে ১৩ বছর কারাগারে রাখা হয়েছিল এবং বিচারিক হত্যার শিকার হয়েছেন। আমি যদি নির্বাচিত হই, তাহলে তার অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করব।”
এ সময় জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক শেখ, নাজিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা আবু দাউদ, শেখমাটিয়া ইউনিয়ন সভাপতি হাফেজ আব্দুর রহমানসহ বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মাসুদ সাঈদী এই নির্বাচনে জামায়াত থেকে পিরোজপুর-১ আসনের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি গতকাল বিভিন্ন বাজারে গণসংযোগ চালিয়ে ভোটারদের সমর্থন চান।





