রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ রাজধানীত পূর্বাচল উপশহরের  শুরু হওয়া ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অনন্য মেলবন্ধন। দেশীয় পণ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে মেলাজুড়ে সাজানো হয়েছে গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ—মাটির তৈরি সামগ্রী, নকশিকাঁথা, জামদানি, খাদি কাপড়, বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্পসহ নানা লোকজ পণ্য।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলার বিভিন্ন প্যাভিলিয়নে দেখা গেছে আধুনিক ডিজাইনের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সংমিশ্রণ। দেশীয় উদ্যোক্তারা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আধুনিক রূপ দিয়ে উপস্থাপন করছেন, যা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে লোকজ শিল্প ও দেশীয় পোশাকে।

একসময় গ্রামবাংলার দৈনন্দিন জীবনে মাটির তৈরি জিনিসপত্রই ছিল গৃহস্থালির প্রধান অনুষঙ্গ। যখন সময়ের পরিবর্তনে প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্যের দখলে তখন মাটির তৈরি পণ্যে মানুষের মন জয় করছে। এখনো মানুষের মনে মাটির জিনিসের প্রতি আলাদা টান রয়েছে। বাণিজ্যমেলায় ক্রেতাদের এসব পণ্য কেনার বড় সুযোগ হয়ে উঠেছে।
মাটির তৈরি কাপ-পিরিচ প্রতি পিস ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, থালা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ফুলদানি ১২০ থেকে ২০০ টাকা, ব্যাংক ৪০ থেকে ২০০ টাকা, ওয়ালমেট ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং মাটির হাঁড়ি ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 
 আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাধ্যমে শুধু বাণিজ্যিক কার্যক্রম নয়, দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। এ মেলা গ্রামীণ শিল্পীদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে তারা সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন।

মেলায় আসা দর্শনার্থীরা বলছেন,আধুনিকতার কারণে এখন মাটির জিনিসপত্রের ব্যবহার অনেক কমে গেছে। তবে প্লাস্টিক বা মেলামাইনের তুলনায় মাটির তৈরি সামগ্রী বেশি স্বাস্থ্যকর। পাশাপাশি দেখতে সুন্দর এবং দামও তুলনামূলক কম। এসব কারণেই তিনি মাটির তৈজসপত্র কিনছেন। 
ঘর সাজাতে সবচেয়ে বেশি দরকার রুচিবোধ। অল্প খরচেই মাটির তৈরি জিনিসপত্র দিয়ে ঘরকে সুন্দরভাবে সাজানো যায়। মাটির পুতুল, ফুলদানি, মোমদানি কিংবা ল্যাম্প ঘরের পরিবেশকে সহজেই আকর্ষণীয় করে তোলে। তাই ভিন্ন ধাঁচের কিছু শোপিস কিনেছেন।

স্টল মালিকরা জানান, আধুনিক পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পণ্যের চাহিদা এবার বেশ ভালো। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা তাদের জন্য আশাব্যঞ্জক।
 মেলায় এসে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মিলছে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় শিল্পীরা উপকৃত হচ্ছেন, অন্যদিকে ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সব মিলিয়ে আধুনিকতার ভিড়েও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যই এবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

 এক ছাদের নিচে দেশি-বিদেশি পণ্যের পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম দেখতে পেয়ে তারা আনন্দিত। অনেকেই মনে করছেন, এমন আয়োজন দেশীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মেলা চলবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এবং প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।