শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ ষষ্ঠদিনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

\r\n

আজ বুধবার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আনা ১৩তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। এর আগে সোমবার পঞ্চমদিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২০ আগস্ট দিন নির্ধারণ করে।

\r\n

মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত এ মামলায় বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট ট্রাইব্যুনাল। এতে সভাপতিত্ব করছেন একজন বিচারপতি, সঙ্গে রয়েছেন আরও দুই বিচারক।

\r\n

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত চলে পঞ্চমদিনের সাক্ষ্যগ্রহণ। এ সময় তিনজন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দেন। তারা হলেন শহীদ আস-সাবুরের পিতা, শহীদ ইমাম হাসান তাইমের ভাই এবং রাজশাহীর এক প্রত্যক্ষদর্শী। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তারা সবাই জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার জন্য অভিযুক্তদের দায়ী করেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

\r\n

সাক্ষ্য শেষে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সাক্ষীদের জেরা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটরদ্বয়।

\r\n

এ মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন বা তা প্রত্যক্ষ করেছেন। মামলার শুরুতে আহত এক আন্দোলনকর্মী প্রথম সাক্ষ্য দেন।

\r\n

এর আগে গত ১০ জুলাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত এই মামলার অভিযোগপত্রটি বিশাল—যার পৃষ্ঠাসংখ্যা ৮ হাজার ৭৪৭। এতে তথ্যপ্রমাণ, জব্দ তালিকা এবং শহীদদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মামলায় মোট ৮১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার কথা রয়েছে।