আজ ৯ অক্টোবর—এই দিনেই জন্মেছিলেন শহীদ মীর মুগ্ধ। একই দিনে জন্ম তাঁর ভাই মীর স্নিগ্ধরও। প্রিয় ভাইয়ের জন্মদিনে আবেগে ভেসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক লেখা শেয়ার করেছেন তিনি।

\r\n

মীর স্নিগ্ধ লিখেছেন, “৯ অক্টোবর—এই দিনটিতেই আমি আর মুগ্ধ একসাথে পৃথিবীতে এসেছিলাম। আজকের দিনে আমি জন্ম আর মৃত্যুকে একসাথে দেখি। যে দৃশ্যটা চোখের সামনে বারবার ভেসে ওঠে, সেটা হলো—মুগ্ধকে কবরের মাটিতে শুইয়ে দেওয়ার মুহূর্ত। এখনো মনে হয়, যেন সেদিনই তাকে কবর দিয়ে এসেছি।”

\r\n

তিনি লিখেছেন, “প্রায় ২৪ ঘণ্টা ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার পর যখন তাকে দাফন করা হয়, তখন তার মাথা থেকে বের হওয়া রক্তে কাফনের কাপড় লাল হয়ে গিয়েছিল। সেই রক্তে আমার পাঞ্জাবিটাও ভিজে গিয়েছিল।”

\r\n

মীর স্নিগ্ধ জানান, গত এক বছরে তিনি দায়িত্বগুলো সম্পূর্ণ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, শহীদ ভাইয়েরা ওপর থেকে তাঁদের কাজ দেখছেন। “তারা যে স্বপ্নের বাংলাদেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, আমরা সেই স্বপ্ন পূরণে কতটা কাজ করেছি, আল্লাহ সেই হিসাব তাঁদের মাধ্যমেই আমাদের নেবেন,” লিখেছেন তিনি।

\r\n

পোস্টে স্নিগ্ধ আরও লেখেন, “আমি আমার সাধ্যমতো সততা আর মর্যাদা রক্ষা করে কাজ করেছি। অনেক প্রস্তাব ও সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু কখনোই অন্যায় পথে হাঁটিনি। একটুখানি শান্তি আছে—আমি কোনো অবৈধ টাকা ছুঁয়ে দেখিনি, ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতেও ছুঁব না।”

\r\n

ভাইয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, “শুনেছি মৃত্যুর পর ভাই-বোনদের দেখা হয় না। জানি না কতটা সত্যি, কিন্তু আমার বিশ্বাস, আল্লাহ এতটা নিষ্ঠুর হবেন না। আমি বিশ্বাস করি, যাঁর সঙ্গে মায়ের পেট ভাগ করেছি, জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ভাগ করেছি, তাঁকে আবারও একবার দেখার সুযোগ দেবেন।”

\r\n

শেষে মীর স্নিগ্ধ লিখেছেন, “তুমি তো নতুন বাংলাদেশের জন্য জীবন দিয়ে গেলে। আমি তোমার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে গিয়ে দেখেছি, কীভাবে মানুষ তোমার অস্তিত্ব মুছে দিতে চেয়েছে। আমি বলি, স্নিগ্ধ আর মুগ্ধ একজনই। আমরা জন্মেছি একসাথে, আর আল্লাহ চাইলে মৃত্যুর পর আমাকেও যেন তোমার কবরেই শায়িত করা হয়।”

\r\n

লেখার শেষে তিনি লিখেছেন, “শুভ জন্মদিন দেশের সব মুগ্ধদের, যারা মুগ্ধদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার মিশন মনে–প্রাণে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।”