ইরানের বিরুদ্ধে ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠা শত্রুতামূলক বক্তব্যকে সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান। এসব বক্তব্যের ধারাবাহিকতা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সেনাবাহিনী প্রধান। আগ্রাসনের চেষ্টা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।বুধবার সেনাবাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ইউনিভার্সিটির ৮৬তম কোর্সের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই কড়া বার্তা দেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি।
ভাষণে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ। বিশ্বশক্তিগুলোর এ ধরনের তৎপরতা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে গভীর অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে।
পশ্চিম এশিয়ার প্রেক্ষাপটে উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতন ও ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে বৃহৎ শক্তিগুলোর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন জেনারেল হাতামি। তার ভাষায়, আল-আকসা ফ্লাড অভিযানের পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ইসরায়েল না থাকলে তাদের তা নতুন করে তৈরি করতে হতো। এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয় কেন পশ্চিমা বিশ্ব সব ধরনের বিতর্ক ও অভিযোগের পরও ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। কারণ, ইসরায়েল কার্যত পশ্চিমা শক্তির একটি প্রক্সি ঘাঁটি হিসেবে কাজ করছে।
ইরানের কৌশলগত অবস্থান এবং ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ এখন ইরানের জাতীয় শক্তির মূল উৎসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি আরও বলেন, জনগণের জীবনযাত্রা নিয়ে কোনো প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কোনো সম্পর্ক নেই। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণ বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে এবং দাঙ্গাকারীদের থেকে নিজেদের আলাদা রেখে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথ রুদ্ধ করেছে।
ভাষণের শেষাংশে তিনি ইরানি জনগণের সচেতনতা ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সেনাসদস্য হিসেবে জাতির এই অবস্থানের প্রতি তিনি গভীর সম্মান জানাচ্ছেন।





