বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে এখন দুর্নীতির মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আগে যেখানে ঘুষ দিতে হতো ১ লাখ টাকা, এখন তা বেড়ে ৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “গতকালই একজন বড় ব্যবসায়ী আমাকে বলেছেন—আগে কোনো কাজ করাতে ঘুষ দিতে হতো ১ লাখ, এখন দিতে হচ্ছে ৫ লাখ টাকা।”

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান রচিত ‘অর্থনীতি, শাসন ও ক্ষমতা: যাপিত জীবনের আলেখ্য’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেখক হোসেন জিল্লুর রহমান এবং প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে কোথাও সুশাসনের চিহ্ন নেই, প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। “পুলিশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাতারাতি সংস্কার সম্ভব নয়। কিন্তু এর জন্য বসে থাকা যাবে না। কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়াও ঠিক হবে না। এখনই বিলম্ব না করে দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যেতে হবে,” — বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের প্রতিনিধিকে সংসদে পাঠিয়ে তবেই প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্ভব। উন্নয়নের কথা বললে রাজনৈতিক দলগুলোকেই জনগণের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ভালো প্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো ধ্বংস হয়েছে। অথচ মানুষগুলো একই থেকে গেছে। কোনো পরিবর্তন হয়নি।”

তিনি বলেন, “অনেকে বলে সব কিছু বাদ দিয়ে দাও, কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। এখন মাথায় হাত বুলিয়ে, আবার কোথাও ধমক দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে।”

ড. সালেহউদ্দিন আরও বলেন, “সুশাসন প্রতিষ্ঠা খুব কঠিন কাজ। কারণ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ক্ষমতার ওপর কোনো কার্যকর ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ নেই। এই কাঠামোয় সংস্কার না হলে যত সংস্কারই করা হোক, তাতে লাভ হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও বড় ধরনের সংস্কার দরকার।”

এই অনুষ্ঠানে বক্তারা মনে করেন, দেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনকল্যাণ সম্ভব নয়।