আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: আখাউড়া উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের  উদ্যোগে এক বিশাল গণমিছিল ও গণসমাবেশ আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় আখাউড়া শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে গিয়ে শেষ হয়।


আখাউড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা–আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আতাউর রহমান সরকার বলেন, “সিএনজি অটোরিকশা থেকে যে ৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে।”


প্রবাসীদের বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রবাসীরা আমাদের দেশের অমূল্য সম্পদ। অথচ তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয় যেন তারা তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক। জামায়াত ক্ষমতায় এলে প্রবাসীদের প্রথম শ্রেণির নাগরিক হিসেবে ভিআইপি সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া হবে।”


তিনি আরও বলেন, কসবা–আখাউড়া উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে একটি নতুন বিপ্লব ঘটানো হবে। তরুণদের বেকার ভাতার নামে একটি মহল তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় এলে তরুণদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, শিক্ষাবৃত্তি ও কর্মসংস্থানমূলক নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”


নতুন স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লার কোনো বিকল্প নেই 
বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি আখাউড়া ও কসবাকে একটি উন্নত,নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “আমরা শাসক হতে আসিনি, আমরা আপনাদের সেবক ও খাদেম হতে এসেছি।”

নেতাকর্মীদের ওপর বিরোধী দলের হামলার অভিযোগ তুলে আতাউর রহমান সরকার বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, মা-বোনদের নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি আমাকে হত্যার জন্য  চেষ্টা করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্র দখলের স্বপ্ন দেখলে ভুল করবেন। কেউ যদি আমাদের অধিকার হরণ করতে আসে, তবে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।”

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “একটি দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের বিজয়ী করতে হবে।”

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতের আমির মোবারক হোসেন আকন্দ, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমীর কাজী ইয়াকুব আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা নির্বাহি সদস্য হাফেজ আহমেদ, আখাউড়া উপজেলা সভাপতি ফখরুদ্দিন তাজি, জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন খান, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুলফিকার হায়দার রাফি, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি শেখ আসিফ, উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী ইয়াকুব আলীসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।