শহীদ সালাম-বরকত হল কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২৯৯ হলেও প্রায় ৪০০টি ব্যালট পেপার রাখা হয়েছে। ভোটার ও প্রার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, কারণ অতিরিক্ত ব্যালট অস্বচ্ছতার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। শুধুমাত্র এই কেন্দ্র নয়, জাকসু নির্বাচনের ২১টি কেন্দ্রের বেশিরভাগেই ১০ থেকে ২০ শতাংশ বা তার বেশি অতিরিক্ত ব্যালট পাওয়া গেছে। সরেজমিনে অন্তত আটটি কেন্দ্রে এমন তথ্য মিলেছে।
নির্বাচন কমিশন ও ভোটগ্রহণে জড়িতরা জানাচ্ছেন, তিন যুগের বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রার্থীদের ভুলের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই অতিরিক্ত ব্যালট রাখা হয়েছে। তারা বলছেন, কোনো ধরনের অস্বচ্ছতার সুযোগ নেই। তবে ভোটার ও প্রার্থীরা আশঙ্কা করছেন, অতিরিক্ত ব্যালট ভোট কারচুপির সুযোগ দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে শহীদ সালাম-বরকত হলে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব থাকলেও ভোটগ্রহণ পরে স্বাভাবিক হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা মওদুদ আহমেদ বলেন, “আমাদের কিছু ব্যালট বেশি এসেছে। বিষয়টি প্রার্থী ও কমিশনকে জানানো হয়েছে। কোনো অস্বচ্ছতা নেই। শতভাগ ভোটার উপস্থিতি নেই, তাই অতিরিক্ত ব্যালট রাখা হয়েছে।”
আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলে ভোটার ৩৩৩। সেখানে প্রায় ৭০টি অতিরিক্ত ব্যালট দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা শিবলি নোমান বলেন, “অতिरिक्त ব্যালট রাখা হয়েছে যাতে অনিচ্ছাকৃত ভুল হলে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে। এখন পর্যন্ত এর প্রয়োজন হয়নি। ব্যালট ফেরত নেওয়া হবে।”
স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতুর পোলিং এজেন্ট মেহেদী হাসান বলেন, “যত সুষ্ঠু নির্বাচনই হোক, ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার সম্ভাবনা নেই। তারপরও কেন অতিরিক্ত ব্যালট রাখা হয়েছে, প্রশাসন স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত।”
ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থীর আচরণ ও অতিরিক্ত সুবিধার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাগছাসের জিএস প্রার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম। তিনি বলেন, “প্রশাসনের ভুল ব্যবস্থাপনা নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তবে ভোট সুষ্ঠু হলে আমরা লড়াই চালাব।”
সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিব বলেন, “শহীদ সালাম-বরকত হলে ১০০টির মতো অতিরিক্ত ব্যালট কার স্বার্থে রাখা হয়েছে তা বোঝা যায় না। কমিশন সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। কিছু ব্যালট নষ্ট হতে পারে, কিন্তু শতভাগ ভোটদান হয় না।”
\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n
জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. খো. লুত্ফুল এলাহী বলেন, “অতিরিক্ত ব্যালট রাখা হয়েছে যাতে ভোট দিতে অনভিজ্ঞ শিক্ষার্থীরা ভুল করলে নতুন ব্যালট দিয়ে ভোট দিতে পারে। কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ দেয়ার উদ্দেশ্য নেই। বাকি ব্যালট ফেরত পাঠানো হবে।”





