দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, গত চার বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটায় বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এটি মোকাবিলায় সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ব পারকিনসন দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য সচিব জানান, রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও বলেন, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে গেছে। গত ৯ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১০ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৭৭ শিশু এবং ১৬৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৪৪ শিশু, আর নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। এ সময় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪০৯ জনে। সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮ হাজার ৯১০ জন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬ হাজার ৬০৯ শিশু।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এছাড়া ১২ এপ্রিল নির্দিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোতে এবং ২০ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আগে টিকা নেওয়া থাকলেও ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে আবারও হামের টিকা দেওয়া যেতে পারে। তবে জ্বর বা অসুস্থ অবস্থায় থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে টিকা না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





