ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন—এমন দাবি উঠে এসেছে একাধিক সূত্রে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ মহলের তিনজনের বরাতে বলা হচ্ছে, হামলায় তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে এবং একটি বা উভয় পা গুরুতরভাবে জখম হয়েছে।

তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

সূত্রগুলো জানায়, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন। শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও মানসিকভাবে তিনি সচল আছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিচ্ছেন—যার মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর হামলার সময় তিনি আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি।

এরপর ৮ মার্চ তিনি দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি এবং তার কোনো ভিডিও বা ছবি প্রকাশ পায়নি।

এদিকে গত ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেন, মোজতবা খামেনি আহত হয়ে পঙ্গু হয়ে থাকতে পারেন। আর মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি সম্ভবত একটি পা হারিয়েছেন।

যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এরই মধ্যে ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মোজতবা খামেনির শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।