যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর ইরানের রাজধানী তেহরানে উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ’র বরাতে দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ৯৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। সংঘাতের সময় দেশটিতে ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ আবাসিক ঘরবাড়ি এবং প্রায় ২৪ হাজার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা এখনো দিনরাত কাজ করছেন। ব্যাপক এই ক্ষয়ক্ষতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে ব্যাহত করেছে।


এদিকে, হামলার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হওয়া এই রুটে বাধার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দেয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ বাড়ে।


উল্লেখ্য, বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা